আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ

সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির কারণে সতর্কতা হিসেবে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে এই ড্রোনগুলো ছোড়া হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি সম্পূর্ণ মেরামত করতে অন্তত ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ১৯৮১ সালে তৈরি ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের দৈনিক তেল পরিবহন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল।

মূলত হরমুজ প্রণালিতে চলমান ইরানি অস্থিতিশীলতা এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে নিরাপদে তেল রপ্তানির জন্য এই পথটি ব্যবহার করে আসছিল সৌদি আরব। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি এই পথে দিনে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে ইয়ানবু বন্দরে থাকা বর্তমান মজুদ দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭ দিন রপ্তানি চালু রাখা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) মতে, এই অস্থিরতা বজায় থাকলে বিশ্বে দৈনিক প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে থাকলেও এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম বেড়ে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা