ইরান যুদ্ধে ফাঁকা মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, পূরণে লাগবে ৩ বছর!

ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের সরাসরি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে গুরুতর সংকট। মার্কিন সরকারের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেশটির সামরিক সক্ষমতার এই ঘাটতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে এসেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও ইউএসএআইডি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলদের সমন্বিত একটি দল। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পর মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এটিই ওয়াশিংটনের প্রথম সরকারি মূল্যায়নগুলোর একটি।

উন্নত অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময়

প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মজুত ছিল, সেই পর্যায়ে ফিরতে প্রতিরক্ষা শিল্পের তিন বছর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ যুদ্ধের সময় ব্যাপক হারে অস্ত্র ব্যবহারের পর শুধু নতুন অস্ত্র উৎপাদন করলেই হবে না; উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতাও পুনর্গঠন করতে হবে।

এতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বা একই সময়ে একাধিক অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

আট দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিবেদনটিতে শুধু অস্ত্রের ঘাটতিই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর শারীরিক ক্ষয়ক্ষতিরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে শত শত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান, জর্ডান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় কয়েক ডজন মার্কিন বিমান ও ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়

মার্কিন সরকারি পর্যবেক্ষকদের এই মূল্যায়ন দেখাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উন্নত অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় bottleneck বা বড় ধরনের জট তৈরি হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের মতো উন্নত অস্ত্র দ্রুত পুনরায় মজুত করা কঠিন হওয়ায় ভবিষ্যতে একই ধরনের বড় আকারের সংঘাত দেখা দিলে ওয়াশিংটনকে অস্ত্র উৎপাদন ও মজুত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রতিবেদনটি তাই শুধু অতীতের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নয়; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, অস্ত্র উৎপাদনের গতি এবং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে।