কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা ‘ভাঁওতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তির ওপর আরও কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ বা ‘গার্ডরেল’ আরোপের দাবিরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এআই জায়ান্ট অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, বিপজ্জনক এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘কিল সুইচ’ রাখা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন হতে পারে। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার সুযোগও থাকা উচিত।
এআই নিয়ে সতর্কবার্তা, প্রযুক্তি খাতে চাপ
ক্লার্কের বক্তব্যের আগে ও পরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও কর্মীরাও প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে তা মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের সতর্কবার্তার প্রভাব পড়েছে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারেও। সোমবার কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিনিয়োগের গতি কমে যেতে পারে।
‘এআই নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ট্রাম্প এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কটাক্ষ করেন।
তিনি এ ধরনের সতর্কতাকে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং স্ক্যাম’-এর সঙ্গে তুলনা করেন এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন। নিজের রাজনৈতিক ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে ‘Hoax Buster’ বা ‘ভাঁওতা ফাঁসকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প এআই ও ডেটা সেন্টারকে ঘিরে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে বলেও মন্তব্য করেন। তার দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে একমাত্র লাভবান হচ্ছে চীন।
এআই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি আরও বলেন, “যে এআই জিতবে, সে-ই জিতবে।”
‘এআইয়ের জন্য একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্টই যথেষ্ট’
এর আগে সোমবারই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কোনো কঠোর ‘গার্ডরেল’-এর প্রয়োজন নেই।
তার ভাষায়, এআইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট’।
ট্রাম্পের এই অবস্থান এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের সতর্ক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
একদিকে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প; অন্যদিকে এআই শিল্পের কিছু শীর্ষ ব্যক্তি এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এআই উন্নয়নের গতি ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে?
বর্তমান বিতর্কে ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট যে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দ্রুত এআই উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখাই তার অগ্রাধিকার।
সূত্র: বিবিসি
চীনা স্যাটেলাইটের সাহায্যে ৩ মার্কিন সেনাকে হত্যা করে ইরান
জুলাইয়ে হত্যা-ষড়যন্ত্রের দায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
সুইস ব্যাংকে 'সর্বনিম্ন' কত টাকা রাখা যায়