ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হুথিদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। হামলায় সৌদি আরব এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এই হামলার দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাল্টা হামলার মুখে হুথিরা
হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন পক্ষ সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও পাল্টা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে। ওই ঘটনায় এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ৫৪টি বিমান হামলার দাবির বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বাব আল-মান্দেব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে হুথিদের হাতে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসবে না, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
ইয়েমেনের যুদ্ধ তাই আবারও স্থানীয় সংঘাতের সীমা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে।