যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে নতুন করে সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনা যেন ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত আরও বিস্তৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে বেইজিং।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। সেখানে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক—আমরা তা চাই না।”
ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে “যুক্তিসংগত ও সংযত” আচরণ করতে হবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা কোনো পক্ষের স্বার্থই পূরণ করবে না।
এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক
আরাঘচি ও ওয়াং ইর মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বসেছিলেন।
এর এক সপ্তাহের মধ্যেই আরাঘচির বেইজিং সফর ইরান-চীন কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে।
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার চীন। দেশটি ইরানের তেলেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রয় করে। ফলে ইরানকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চীনের বাণিজ্য ও জ্বালানি স্বার্থের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইয়েমেন ও লোহিত সাগর নিয়ে উদ্বেগ
চীনের বক্তব্যে বিশেষভাবে ইয়েমেন ও লোহিত সাগরের কথা উঠে এসেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথিদের সামরিক তৎপরতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর বাড়তে পারে।
লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই কারণেই বেইজিং ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সংঘাত কমিয়ে আলোচনার কাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কূটনীতির পথ খোলার চেষ্টা
আরাঘচির বেইজিং সফরের মধ্য দিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে চীনের কূটনৈতিক ভূমিকার বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।
চীনের অবস্থান হলো—বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা এবং সামরিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হতে না দেওয়া। তবে বেইজিংয়ের এই আহ্বান কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী অবস্থান এবং আলোচনায় ফেরার প্রস্তুতির ওপর।