মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ মক্কায় কথিত ড্রোন হামলার চেষ্টাকে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় পাকিস্তানের জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। একই সঙ্গে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেন তিনি।

শাহবাজ শরিফ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যে দীর্ঘ সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। টেকসই শান্তির জন্য সংলাপ ও কূটনীতিকেই তিনি কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মক্কার দক্ষিণে ড্রোন ধ্বংসের দাবি

এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি পক্ষের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ভূপাতিত করে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। সৌদি পক্ষ ঘটনাটিকে মক্কার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে।

তবে হুথিরা মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি সূত্রের বক্তব্য, ইয়েমেন থেকে মক্কা বা অন্য পবিত্র স্থানের দিকে কোনো হুমকি পাঠানো হয়নি।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন উদ্বেগ

মক্কার কাছে ড্রোনের এই ঘটনা সৌদি আরবকে ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের হামলার পর দেশটির একাধিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও পাকিস্তান হুথিদের সৌদি আরবে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ বলেন, হুথিদের হামলা এবং বাব আল-মান্দাব এলাকায় তাদের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।

এদিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। মক্কার মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরের কাছাকাছি ড্রোন ধ্বংসের সৌদি দাবি সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।

তবে ঘটনাটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং হুথিদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ফলে মক্কাকে সরাসরি লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের দাবির বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন