পতিতাবৃত্তি বা পশুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের মতো কর্মকাণ্ডের অতীত থাকলেও কিছু আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল।
মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির এক উত্তপ্ত শুনানিতে প্যাটেল বলেন, নতুন নীতির উদ্দেশ্য হলো যৌন নির্যাতন বা মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এফবিআইয়ের চাকরি থেকে বাদ না দেওয়া। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন আবেদনকারীদের অন্যান্য প্রার্থীর মতোই কঠোর যাচাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এফবিআইয়ের নিয়োগসংক্রান্ত নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে আগস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আগের নিয়মে পতিতাবৃত্তি বা পশুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িত থাকার বিষয়টি চাকরির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে উল্লেখ ছিল। পরবর্তী নির্দেশনায় বিষয়গুলোকে আর একইভাবে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার তালিকায় রাখা হয়নি।
কেন নীতি পরিবর্তন?
প্যাটেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশেষ করে মানবপাচার বা যৌন নির্যাতনের শিকার কেউ যদি জোরপূর্বক এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই অভিজ্ঞতার জন্য তাকে আজীবন চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
শুনানিতে প্যাটেল বলেন, এ ধরনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
এফবিআইও জানিয়েছে, পরিবর্তিত নীতির অর্থ এই নয় যে সংস্থাটি অপরাধমূলক আচরণকে অনুমোদন করছে। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন আবেদনকারীর সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
সিনেটে প্রশ্নের মুখে প্যাটেল
সিনেটররা জানতে চান, পশুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িত থাকার মতো কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে এফবিআইয়ের মতো একটি সংস্থায় চাকরির জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
প্যাটেল জবাবে বলেন, স্বেচ্ছায় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া এবং জোরপূর্বক বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি এক নয়। তাঁর যুক্তি ছিল, কোনো ভুক্তভোগীকে তার ওপর সংঘটিত নির্যাতনের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
তবে নীতির সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডকে আর স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে। তবে সেই অভ্যন্তরীণ নথিটি পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে প্যাটেলের ব্যাখ্যার সঙ্গে নীতির সুনির্দিষ্ট প্রয়োগের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এফবিআইয়ের নিয়োগনীতিতে বিতর্ক
নীতির পরিবর্তনটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন এফবিআইয়ের নিয়োগ, কর্মীসংখ্যা এবং সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সিনেটের শুনানিতে প্যাটেলকে শুধু নিয়োগনীতি নয়, এফবিআইয়ের কর্মীদের বরখাস্ত, সংস্থাটির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ফলে নিয়োগনীতির এই পরিবর্তনটি বৃহত্তর এফবিআই সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
এদিকে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত নিয়মের পরও আবেদনকারীদের জন্য কঠোর যোগ্যতা ও নিরাপত্তা যাচাই বহাল রয়েছে। অর্থাৎ অতীতে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্যতার কারণ না হলেও, চাকরি পাওয়া নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
নীতির পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এর সব শর্ত ও প্রয়োগের সীমা স্পষ্ট নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সিনেটে আরও তদন্ত ও নথি চাওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।