সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দূরে থাকতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস বলেছে, সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতেও ইয়েমেন সীমান্ত অঞ্চলকে ‘লেভেল ৪-ডু নট ট্রাভেল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি সীমান্তবর্তী শহর ও অন্যান্য স্থাপনায় ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানরত ব্যক্তিরা বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা আরও জোরালো হয়েছে। মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সৌদি আরবের জন্য সামগ্রিক ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল ৩ ‘রিকনসিডার ট্রাভেল’ করা হয়েছে। এর পেছনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সশস্ত্র সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বাহিনীর হামলার অভিযোগও বেড়েছে। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইয়েমেন সীমান্তে মার্কিন এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে এবং হুথিদের হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। জাতিসংঘের হিসাবে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতার মূল বার্তা হলো- ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা।