ইরান-লেবানন-গাজায় ‘মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ অভিযান চালানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

রিজইরান, লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজ দল লিকুদের নির্বাচনী প্রচার শুরুর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘মিশন শেষ করতে হবে’ এবং ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত ও হিজবুল্লাহ এবং হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

তেল আবিবে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ও তার দলই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। তার ভাষণের বড় অংশজুড়ে ছিল জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ।

নেতানিয়াহু বলেন, “মিশন অবশ্যই শেষ করতে হবে; আমাদের ইরানি শাসনব্যবস্থা পতন ঘটাতে হবে এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।” এ বক্তব্য তিনি ইরান, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরার সময় দেন।

‘ভূখণ্ড নেওয়ার’ রাজনীতি

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তার অভিযোগ, বিরোধীরা নিরাপত্তার বিনিময়ে ‘ভূখণ্ড ছাড়’ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করতে চায়।

এর বিপরীতে তিনি লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা ভূমি নেওয়া, ভূমি দেওয়া নয়”— এমন নীতিই অনুসরণ করছি। তিনি এর মাধ্যমে নিজের সরকারের সামরিক ও ভূখণ্ডগত নীতির পার্থক্য তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, তার নেতৃত্বে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পরিবর্তন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানাননি।

নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ইস্যু

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এসেছে ইসরায়েলের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরুর সময়। লিকুদের প্রচারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতাকে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জরিপগুলোতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি টাইমস অব ইসরায়েল জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটকে ৫১টি আসন এবং তার বিরোধী বিভিন্ন দলকে মোট ৫৫টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। জরিপে ৫০০ জন উত্তরদাতা অংশ নেন এবং এতে ±৪ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টের মার্জিন অব এরর ছিল। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জনমত জরিপ; নির্বাচনের ফলাফল হিসেবে এটিকে দেখা যায় না।

নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘দুর্বল’ সরকার গঠনের পরিকল্পনার অভিযোগও করেন এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে নিজের নেতৃত্বকে তুলে ধরেন।

যুদ্ধ ও কূটনীতির প্রেক্ষাপট

নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের পাশাপাশি লেবানন ও গাজাতেও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের একটি সীমিত প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবে। প্রতিনিধি দলে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি থাকার কথা রয়েছে।

ফলে একদিকে ইসরায়েলি নেতৃত্ব সামরিক লক্ষ্য পূরণের কথা বলছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগও বজায় রয়েছে। এসব বক্তব্য ও উদ্যোগের ভবিষ্যৎ প্রভাব নির্ভর করবে যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর।