দক্ষিণ নাইজেরিয়ায় মিথানল মেশানো বিষাক্ত দেশি মদ পান করে অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮২ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত অনেকের কিডনি বিকল, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও মস্তিষ্কে ক্ষতির মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির ওন্দো রাজ্যের ওদিগবো ও আইরেলে স্থানীয় সরকার এলাকায় বিষাক্ত মদ পানের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে তৈরি উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত ঔষধি পানীয় ‘মাংকি টেইল’-এর সঙ্গে বিষাক্ত মিথানল মেশানোর ফলে এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। এরপর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন ওই পানীয় পানকারীরা। পরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
ওন্দো রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আবায়োমি জিমো জানিয়েছেন, বিষাক্ত মদ তৈরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উৎপাদনকারীসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষাক্ত পানীয় তৈরির সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিথানল অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক। এটি শরীরে প্রবেশ করলে গুরুতর বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। আক্রান্তদের দৃষ্টিশক্তি ও কিডনিতে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ার গ্রামীণ এলাকায় তুলনামূলক কম দামের কারণে স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব পানীয় উৎপাদন ও বিক্রিতে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মাঝেমধ্যেই বিষক্রিয়া ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এদিকে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের পাত্রে মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে নাইজেরিয়ার খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তৈরি মদের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।