যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
লি জে-মিয়ং জানান, দুই দেশের মধ্যে এই সংলাপের সম্ভাবনা এখনই নিশ্চিত নয়, তবে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তৈরি হওয়া ভালো সম্পর্ককে তিনি আবারও কাজে লাগাতে চান।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুই কোরিয়ার আলোচনার চেয়ে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সংলাপ শুরু হওয়া অনেক সহজ। সিউল এই বৈঠকের প্রাথমিক সমন্বয়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের মতে, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে সিউলের ধারণা, এই পারমাণবিক ওয়্যারহেডের সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে, সিউলের একটি আদালত ২০২০ সালে আন্তঃকোরীয় লিয়াজোঁ অফিস উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই আঞ্চলিক উত্তেজনা এখন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে সেনা মোতায়েনের জন্য মার্কিন চাপ থাকা সত্ত্বেও স্পষ্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি। তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো সেনাকে সামরিক সংঘাত বা অভিযানে পাঠাবে না সিউল।
লি স্পষ্ট করেন, কেবল নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি পরিবহনের সুরক্ষার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কার্যক্রম রাখা হবে। দেশে তীব্র সামাজিক বিরোধিতার মুখে সিউল সামরিক সংঘাত এড়ানোর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে।
সূত্র: আল জাজিরা