আবারও বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে কিউবার লাখো মানুষ

আবারও বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপজুড়ে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। চলতি বছরে এটি কিউবার অন্যতম বড় জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউবার জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের খবর জানায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় সমস্যার পর জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।

কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা কয়েক বছর ধরেই জ্বালানি সংকট, পুরোনো অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর বারবার বিকল হওয়ার কারণে চাপে রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টেও দেশটিতে একাধিকবার জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা গেছে।

কিউবার সরকার এই সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করছে। হাভানার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সরবরাহে বাধার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং পুরোনো অবকাঠামো মেরামতের যন্ত্রাংশ আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন কিউবার বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির সরকারের নীতিকেও দায়ী করে আসছে।

জ্বালানি সংকটের মাত্রা বোঝাতে কিউবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা ব্যাপক ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশ কয়েকটি কয়েক দশক পুরোনো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

জাতীয় গ্রিড সচল থাকলেও কিউবার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকে না। কোথাও কোথাও একটানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা ঘটছে। এতে রান্না, পানি সরবরাহ, যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাসহ দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও কর্মক্ষেত্রেও। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পরিবহনসেবা সীমিত করা, কর্মঘণ্টা কমানো এবং উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবাও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।

জ্বালানি সংকটের মধ্যে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এই বিপর্যয়ে দেশটির অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এখন ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ