আরব বিশ্লেষক আবদুলবারি আতওয়ান দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সামরিক কৌশলের মুখে বিশ্ব সামরিক ব্যবস্থার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে পশ্চিমাদের দীর্ঘদিনের অপরাজিত ভাবমূর্তি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে।
‘রাই আল-ইয়াওম’ পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি বলেন, ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ঘোষণা অনুযায়ী এখন থেকে এফ-৩৫ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান অনুসরণ ও ধ্বংস করার এক নতুন যুগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এসব স্টেলথ যুদ্ধবিমান বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম চালান পৌঁছাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। আগামী ৫ বছরে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক মানচিত্র ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, এমনকি মার্কিন ঘাঁটির অস্তিত্বও সংকটে পড়তে পারে।
পেন্টাগনের অজেয় ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌঘাঁটিতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। জেনারেল জন কর্ডেলের মতে, মানামার মার্কিন ঘাঁটির ক্ষতি একটি বিমানবাহী রণতরী ধ্বংসের সমান, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক আঘাত।
ইরানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তথাকথিত সুরক্ষাবলয় ভেঙে দিয়েছে এবং মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারকে কার্যত শূন্যের কোঠায় ঠেলে দিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী শক্তির দাপট এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি বলে মনে করছেন আতওয়ান।
সূত্র: পার্সটুডে।