ফ্রান্স-কানাডা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে গভীর অংশীদারিত্বের ঘোষণা

কানাডার আটলান্টিক উপকূলের কাছে অবস্থিত একটি ফরাসি ভূখণ্ডে বৈঠক করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশ দুটি প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে গভীর অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে চলমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার মাঝেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

দুই নেতার সেন্ট পিয়ের ও মিকেলন সফরটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।  ২০১৪ সালের পর কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্টের প্রথম এবং ইতিহাসে কোনো কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর ছিল এটি। ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক এই দ্বীপপুঞ্জসহ পুরো কানাডা এবং উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দেশকে মার্কিন পতাকায় ঢাকা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যান উভয় দেশের সরকার প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান তিক্ত বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অটোয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে আসছে।

রোববার ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি এক বিবৃতিতে মার্ক কার্নি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ক্ষয় এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর নতুন সব হুমকি, এই নতুন সঙ্কটের কারণে আমাদের সমাজ আজ কেঁপে উঠছে। এতে আমদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার সময় এখন এসেছে বলে যোগ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, দুই মিত্র দেশ মহাকাশ ও জলবায়ু থেকে শুরু করে জ্বালানি খাত পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। আমরা উভয়েই গণতন্ত্র, আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের প্রতি সম্মান, আমাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে বিজ্ঞান এবং আমরা যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করি, তাতে বিশ্বাস করি বলে যোগ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।