কানাডায় গ্রিজলি ভালুকের আক্রমণে মা-মেয়ে নিহত

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে গ্রিজলি ভাল্লুকের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন মা ও মেয়ে। গত ১ নভেম্বর বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত দুজন হলেন- ৪৮ বছর বয়সী জেনিফার বালকারাস ও তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলা রিড।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ নভেম্বর বিকেলে অল্প সময়ের জন্য হাঁটতে বেরিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বাড়ি না ফেরায় নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয়। ব্রিটিশ কলম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিসের (বিসিসিওএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশের বেলা কুলা এলাকার একটি হাঁটার পথে মা ও মেয়ের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বন্যপ্রাণীর আক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বন কর্মকর্তা ও রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) যৌথ তল্লাশি অভিযানে সোমবার মা জেনিফারের এবং মঙ্গলবার মেয়ে সেলার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

বিসিসিওএসের পরিদর্শক জেফ টায়ার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি নাকি একাধিক ভাল্লুক জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বন কর্মকর্তারা হামলায় জড়িত থাকতে পারে এমন ভাল্লুকের সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, কোনো ভাল্লুক ধরা পড়লে সেটি পরীক্ষা করা হবে। তদন্তে হামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রাদেশিক নীতিমালা অনুযায়ী সেটিকে মেরে ফেলা হবে। 

এদিকে নিহত জেনিফারের ভাই জশ বালকারাস কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসিকে বলেন, তার বোন ও ভাগনি একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া ছিল। বিভিন্ন শখ ও পছন্দের বিষয়ও একসঙ্গে ভাগ করে নিতেন। জশ বালকারাস বলেন, ‘জেনি যখন হাইকিংয়ে যেতেন, সেলা সব সময় তার পাশেই থাকত।’ তার ভাষ্য, মা-মেয়ে একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং প্রায় সব কাজ একসঙ্গেই করতেন। পরিবারের শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্রিজলি ভাল্লুক ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘এনভায়রনমেন্টাল রিপোর্টিং বিসি’র তথ্য অনুযায়ী, কানাডার ফেডারেল আইনে এই প্রজাতিকে ‘বিশেষ উদ্বেগের’ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রদেশটির পরিবেশ, ভূমি ও পার্কবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় বর্তমানে ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার গ্রিজলি ভাল্লুক রয়েছে। মন্ত্রণালয় এই প্রজাতিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ভাল্লুক ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। তবে হঠাৎ মানুষের মুখোমুখি হলে কিংবা নিজেদের শাবক ও খাবার রক্ষার চেষ্টা করলে ভাল্লুক আক্রমণ করতে পারে।

জেএম
আরও পড়ুন