দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের খিয়াম শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (NNA) জানায়, বিস্ফোরণের শব্দ দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে খিয়ামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে খিয়াম ও দক্ষিণ লেবাননের আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বেড়েছে।
মঙ্গলবারও লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, খিয়ামের উত্তর প্রবেশপথের কাছে ইসরায়েলি একটি সামরিক যান অবস্থান নেয় এবং শহরের ভেতরে ভারী ও মাঝারি মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সময়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
এর আগে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। লেবাননের সরকারি সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, খিয়াম ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল।
ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ
মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়। লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, খিয়ামের পাশাপাশি নাবাতিয়েহ, বিন্ত জবেইল, মারজায়ুন ও টায়ার জেলার বিভিন্ন এলাকাও হামলা ও সামরিক তৎপরতার মুখে পড়ে।
খিয়ামে বুধবারের সর্বশেষ বিস্ফোরণটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম Mouwaten-ও খিয়ামে বিস্ফোরণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে; তাদের লাইভ আপডেটে একটি ঘটনাকে যাচাই করা হয়েছে এবং আরেকটি ঘটনাকে তখনো অযাচাইকৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে বাড়ছে উত্তেজনা
খিয়ামে বিস্ফোরণের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কাতারভিত্তিক QNA জানিয়েছে, খিয়ামের সমতল এলাকায় কয়েকটি গোলার আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠ ও ওয়াদি জবাকিনেও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ এবং স্থল তৎপরতা বেড়েছে। খিয়াম ও আশপাশের এলাকাতেও এসব তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে।
খিয়ামের সর্বশেষ বিস্ফোরণে হতাহত, ভবন ধ্বংস কিংবা বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে লেবাননের কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও বিস্ফোরণের উৎস স্পষ্ট হতে পারে।