ইসরায়েলি সরকারের নীতির কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে সংঘাত ও দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে দেওয়া এক বক্তব্যে সাফাদি বলেন, ইসরায়েল সরকারের বিভিন্ন ‘অবৈধ নীতি ও পদক্ষেপ’ বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিশু হত্যা, স্কুল ধ্বংস এবং বেসামরিক মানুষকে অনাহারে রাখার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাফাদি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলপন্থী প্রচারকরা ইতিহাস বিকৃত করার এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি জানানো ব্যক্তিদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাফাদি বলেন, জর্ডান ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কারণে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে থাকবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে বাস্তব ও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দেশটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
তার ভাষায়, ইসরায়েলি সরকার পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে সংঘাত ও দুর্ভোগের মধ্যে জিম্মি করে রেখেছে।
সাফাদি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলি সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর যে অবিচার, নিপীড়ন ও বঞ্চনা আরোপ করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক সংঘাতকে যেভাবে উসকে দেওয়া হচ্ছে—সেসবেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে।
দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে সাফাদি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানালেও সেই সমর্থনকে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল এবং গাজায় ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যথেষ্ট আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকলে ইসরায়েল এমন নীতি ও পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে, যা শান্তির সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনকে এখন বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত করা জরুরি।
নিউইয়র্কের বৈঠকটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সৌদি আরব যৌথভাবে আয়োজন করে। বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
সাফাদির বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক সংকট মোকাবিলা, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি দখল ঠেকানো এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদার করা।