মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলেই হরমুজ উন্মুক্ত: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মেনে চুক্তিতে সই করলে আগামী সাতদিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। নিউ ইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আব্বাস আরাঘচি জানান, নতুন প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো গত জুনে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অর্জিত সমঝোতা স্মারক। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো দাবি চাপানো হয়নি, বরং আগের শর্তগুলো বহাল রেখেই ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এক কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছেন। পারমাণবিক সংকটের সমাধানের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির এই বিষয়টি চলমান আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের মূল পথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সমাধানের চাপ বাড়ছে।

গত জুনের ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতায় উল্লেখ ছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং হরমুজে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের সংঘাত ও নৌ-অবরোধ বন্ধ করে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।

যাইহোক, সমঝোতা পরবর্তী হামলা-পাল্টা হামলা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য জাহাজে আক্রমণের ঘটনায় আলোচনা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি সাময়িকভাবে ধসে পড়লে আবারও নতুন করে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হলো।

সূত্র: রয়টার্স