তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা 'গোবেকলিতেপে' থেকে গত তিন দশক ধরে উদ্ধার হওয়া অগণিত মানুষের হাড়ের রহস্য এবার উন্মোচিত হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের গবেষণার পর সেখানে দুটি অক্ষত সমাধির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা, যা এই অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন মানবকঙ্কালের পেছনের আসল কারণ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করছে।
১৯৯৫ সাল থেকে গোবেকলিতেপে এলাকা খনন করে গবেষকরা নারী, পুরুষ ও শিশুদের প্রায় ৯২৮টি হাড়ের খণ্ড উদ্ধার করেন। ১০ হাজার বছরের পুরোনো এসব কঙ্কাল মূলত সেই সময়ের, যখন মানুষ কেবল স্থায়ীভাবে কৃষিভিত্তিক বসতি গড়ে তুলতে শুরু করেছিল। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের অবাক করে বিষয়টি ছিল—আস্ত কঙ্কালের বদলে সেখানকার বিশালাকার প্রাচীন ভবনসহ পুরো এলাকা জুড়ে এসব হাড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
বহুদিন ধরে বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন ছিল—এগুলো কি কোনো প্রাচীন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ছিটানো হয়েছিল, নাকি প্রাকৃতিক কোনো কারণে এমনটি ঘটেছে?
সম্প্রতি 'প্লস ওয়ান' (PLOS One) সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জার্মানির জর্জ-আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলিয়া গ্রেসকি এবং জার্মান আর্কিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষক লি ক্লার একটি নতুন তথ্যের কথা জানান। তারা প্রথমবারের মতো গোবেকলিতেপেতে দুটি অক্ষত প্রাচীন সমাধির খোঁজ পেয়েছেন।
এর একটি কবরে এক তরুণীর মরদেহ পাথরের স্তরের ওপর রাখা ছিল। অন্যটি ছিল একটি যৌথ কবর, যেখানে অন্তত তিনজন মানুষের হাড় সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। গবেষণাগারে এই কঙ্কালগুলো পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখেন, সেখানে ইঁদুরের কামড়ের দাগ, হাড় ভাঙার চিহ্ন এবং খনিজের প্রলেপ রয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, পুরো এলাকায় ছড়িয়ে থাকা হাড়ের টুকরোগুলোর ওপরও ঠিক একই ধরনের প্রাকৃতিক ক্ষতির ছাপ দেখা গিয়েছিল।
গবেষকদের ধারণা, হাড়গুলো মূলত পাহাড়ি এলাকার ওপরের দিকে থাকা কবরগুলোর অংশ ছিল। কালের পরিক্রমায় ভূমিধস ও মাটি ক্ষয়ের কারণে সেগুলো পাহাড়ের ওপর থেকে গড়িয়ে নিচের ভবনগুলোতে চলে আসে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে প্রাকৃতিক কারণ প্রধান ভূমিকা রাখলেও, গবেষকরা প্রাচীন কোনো দাফন প্রথা বা সামাজিক আচারের সম্ভাবনাকেও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।