পরমাণু অস্ত্র হাতে পেলে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে পারে ইরান, সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র গেলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ইরানকে পরমাণু বোমা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান। চলতি সংঘাতের মধ্যেও পরমাণু ইস্যুটিই দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে রয়েছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোই তাঁর প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। একই ভাষণে তিনি চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।

তবে সামরিক হুমকির পাশাপাশি ইরানকে নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে বাস্তব অগ্রগতি দেখলে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে Axios জানিয়েছে। অর্থাৎ একদিকে সামরিক চাপ, অন্যদিকে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক ছাড়—দুই পথই একসঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য পরমাণু অবস্থান নিয়ে কোনো নমনীয়তার খবর অস্বীকার করা হয়েছে। তেহরানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, সেখানে নতুন করে কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। স্থাপনাটি নাতাঞ্জের কাছে গভীর ভূগর্ভে নির্মিত এবং এর অবস্থান ও কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা একই সময়ে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটনের বক্তব্যে পরমাণু অস্ত্র ঠেকানোর বিষয়টি মূল শর্ত হিসেবে থাকলেও, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক ছাড়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে যে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।