ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান স্যান্ডার্সের

ইসরায়েলের প্রধান দুটি আরব-সমর্থিত রাজনৈতিক জোটকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

স্যান্ডার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে তাদের সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সংকুচিত হবে। এরপরই তিনি লিখেছেন, ‘ইসরায়েলকে আর কোনো মার্কিন সামরিক সহায়তা নয়।’

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাম) এবং জয়েন্ট লিস্টকে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করে। একই সঙ্গে হাদাশের আইনপ্রণেতা ওফের কাসিফ এবং বালাদ দলের নেতা সামি আবু শেহাদেহকেও নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়; ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টকে এগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।

নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দলগুলো আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিস্তিনি আইনি অধিকার সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, দলগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আইনি মানদণ্ড পূরণ করে না। ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেলও দুই প্রধান আরব দল ও কাসিফকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের আইনে কোনো দল বা প্রার্থীকে দেশটির ‘ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ হিসেবে অস্তিত্ব অস্বীকার, বর্ণবাদে উসকানি অথবা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম সমর্থনের অভিযোগে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। তবে অতীতে আরব দল ও প্রার্থীদের নিষিদ্ধ করার কয়েকটি সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।

স্যান্ডার্স এর আগেও ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি ইসরায়েলের কাছে দুটি অস্ত্র বিক্রি বন্ধে সিনেটে প্রস্তাব তুলেছিলেন। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে ছিল ১,০০০ পাউন্ডের বোমা এবং বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করা।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধের একটি সংশোধনী ৩১৪-১০৪ ভোটে নাকচ হয়।

ইসরায়েলের নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এখন মূল প্রশ্ন হলো—সুপ্রিম কোর্ট দুই আরব রাজনৈতিক জোটের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে, নাকি আগের কয়েকটি মামলার মতো তা বাতিল করবে। আদালতের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে এসব দল ব্যালটে থাকতে পারবে কি না।