মসজিদের ‘ইহুদিকরণ’ ঠেকাতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি হামাসের যে আহ্বান

আল-আকসা ইন্তিফাদার ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আরব, মুসলিম দেশ এবং বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার লক্ষ্যে তাদের অবস্থান অবিচল থাকবে। ২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আল-আকসা ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল।

বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘আমাদের দিকনির্দেশনা থাকবে ভূমি ও পবিত্র স্থানগুলো মুক্ত করার দিকে। আমাদের জনগণের বৈধ অধিকার অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম ও দৃঢ়তার প্রতি সমর্থন জানাতে আমরা আরব জাতি এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

হামাসের দাবি, এবারের বার্ষিকী এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ফিলিস্তিনি জনগণ ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের ‘নজিরবিহীন’ উত্তেজনা ও চাপ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদও রয়েছে।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, আল-আকসাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নীতির সঙ্গে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সুরক্ষা দেওয়া, মসজিদের ‘ইহুদিকরণ’, এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের চেষ্টা এবং দখল ও বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

হামাস আরও বলেছে, এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা বা তাদের দৃঢ় সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।

বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমি, অধিকার, জাতীয় নীতি ও পবিত্র স্থান থেকে সরে যাবে না। হামাসের ভাষ্য, ইসরায়েলি সরকারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।

ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি অভিন্ন কৌশল নির্ধারণেরও আহ্বান জানিয়েছে হামাস। এ কৌশলের সঙ্গে ধারাবাহিক আরব, মুসলিম ও আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের ‘কার্যকর অংশীদারত্ব’ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের সমর্থকদের ফিলিস্তিনিদের পক্ষে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, গণমাধ্যম ও জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হামাস বলেছে, আল-আকসা মসজিদকে লক্ষ্য করে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে।

যেভাবে শুরু হয়েছিলো আল-আকসা ইন্তিফাদা

২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইসরায়েলি বিরোধী নেতা এরিয়েল শ্যারন বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা আল-আকসা ইন্তিফাদায় রূপ নেয়।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই গণঅভ্যুত্থান ২০০৫ সালের শার্ম আল-শেখ সম্মেলনের পর কার্যত শেষ হয়। আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময় ৪ হাজার ৪১২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৮ হাজার ৩২২ জন আহত হন।

আল-আকসা ইন্তিফাদা ছিল প্রথম ইন্তিফাদার পর ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংঘাতের আরেকটি বড় অধ্যায়। ২০০০ সালের ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে জেরুজালেম, সীমান্ত, শরণার্থী ও বসতি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া এবং শান্তি প্রক্রিয়ার অচলাবস্থাও ওই সময়ের উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, চলতি বছরের আল-আকসা ইন্তিফাদার বার্ষিকীর দিনই মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে ১ হাজার ২২২ জন ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে। ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।