ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে হামলা চেষ্টার ঘটনায় ইরান জড়িত: ট্রাম্প

ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ তার হাতে নেই।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) টেক্সাসে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ‘এমনই মনে হচ্ছে’, তবে তিনি তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।

ট্রাম্প বলেন, “মনে হচ্ছে তারা জড়িত ছিল। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, তবে সেদিকেই ইঙ্গিত যাচ্ছে।”

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির ঘটনায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। গত রোববার ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি ভ্যান ও কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তিকে ঘিরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের পরবর্তীতে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বুধবার জানিয়েছিলেন, ঘটনায় ইরানের ভূমিকার বিষয়ে তাদের কাছে ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি এর পক্ষে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং বলেন, তদন্ত এখনো চলমান।

এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে আটক করা হয়েছে। একই তদন্তে আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরান সরাসরি জড়িত—এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরান এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। লন্ডনে ইরানের দূতাবাস আগে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিকের গ্রেপ্তারের সঙ্গে তেহরানের কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলমান ইরান যুদ্ধের সময় এখান থেকে মার্কিন বোমারু বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। এ কারণে ঘাঁটিটি ইরান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

‘যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে’

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, যুদ্ধ “একভাবে হোক বা অন্যভাবে, খুব দ্রুত শেষ হবে”।

তবে এগুলো ট্রাম্পের নিজস্ব বক্তব্য ও মূল্যায়ন। ইরানের সামরিক সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হবে—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি পাঠিয়েছে। প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা, নাবিক ও মেরিনকে নিয়ে অতিরিক্ত নৌবহর ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাকে ঘিরে তদন্তের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিও আন্তর্জাতিকভাবে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে ব্রিটিশ তদন্তের মূল প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কী পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের সঙ্গে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের যোগাযোগ ছিল কি না এবং থাকলে সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত জানাতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।