ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ হাজার মার্কিন মেরিন পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করা মার্কিন নৌবহরে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।
মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপে তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ রয়েছে এবং এতে ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা রয়েছেন। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়লে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকতে পারে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা Marisks জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার উৎস বা ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এসব ঘটনায় কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী করার মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যও পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এরই মধ্যে জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক বীমা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাবিক ও মেরিনের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে শতাধিক সামরিক বিমানও ওই অঞ্চলে রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলা হলে আগের তুলনায় আরও ব্যাপক পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা চললেও অগ্রগতি সীমিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস স্থাপনার নিরাপত্তায় সম্প্রতি দুটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, একটি সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং অন্যটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সৌদি ও কাতারের নেতারা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় মার্কিন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলা হলে তেহরান পাল্টা উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে।
ফলে মার্কিন মেরিন ও নৌবহরের নতুন মোতায়েন, হরমুজে বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলা এবং উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনার প্রতিরক্ষা জোরদার—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।