মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের বিভিন্ন এয়ারলাইনের অন্তত ৮৩টি ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সময়সীমা পার হওয়ার পর তুরস্কে অবতরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ (এফডিডি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এফডিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব ফ্লাইট তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ইজমির ও আঙ্কারা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সংস্থাটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর ইতিহাস পর্যালোচনা করে এসব অবতরণের তথ্য পেয়েছে।
এসব ফ্লাইটের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১২টি ইরানি এয়ারলাইন শনাক্ত করেছে এফডিডি। এর মধ্যে ইরান এয়ারট্যুর ও ক্যাস্পিয়ান এয়ারলাইনস ১২টি করে, ইরান এয়ার ১০টি এবং এটিএ এয়ারলাইনস ও এভা এয়ারলাইনস ৯টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এফডিডি জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ১২টি এয়ারলাইনের মধ্যে ৮টিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর পৃথকভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ইরানের বিমান চলাচল খাতে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়।
তুরস্কের স্টেট এয়ারপোর্টস অথরিটির মহাপরিচালকের দপ্তরের তথ্যও পর্যালোচনা করেছে এফডিডি। সংস্থাটির দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তুরস্কে কার্যক্রম পরিচালনাকারী অন্তত ৮টি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি এয়ারলাইনের সঙ্গে ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেসের সরাসরি সেবা চুক্তি ছিল।
এসব চুক্তির আওতায় ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও ইজমির বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা এবং বিমান ওঠানামাসহ বিভিন্ন গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সেবা দেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। নির্বাহী আদেশ ১৩৯০২-এর আওতায় ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ, ইরানের বিমান চলাচল খাত ব্যবহার করে অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।
তবে এফডিডির ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য এবং মার্কিন সরকারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইরানি এয়ারলাইনগুলো বা তুরস্কের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।