ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে পাকিস্তান ও তুরস্ক কী ধরনের বাস্তব সামরিক সহায়তা দেবে, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক উপদেষ্টা ফার্নান্দো কারভাহাল এমন প্রশ্নই তুলেছিলেন।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন পক্ষ—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের—বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। শুধু ‘প্রতিরোধ’ বা deterrence-এর কথা বললেই হবে না; বাস্তবে চুক্তিটি কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
কারভাহাল বলেন, হুথিরা যখন ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্ট ও সৌদি সীমান্তে হামলা বাড়িয়ে চলেছে, তখন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি পরদিন সকাল থেকেই বাস্তবে কী করবে—তা তখনও স্পষ্ট ছিল না।
বিশেষ করে ইয়েমেনে একটি ত্রাণবাহী বহরে হামলায় পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। তাঁর মতে, হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিকে সহায়তা করতে পাকিস্তান কতজন সেনা, কী ধরনের অস্ত্র এবং কী পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা দিতে প্রস্তুত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন ছিল।
তবে ৫ অক্টোবরের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরুরি বৈঠকের পর তিন দেশ ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে।
অর্থাৎ, আগে যে প্রশ্ন ছিল—পাকিস্তান ও তুরস্ক আদৌ সৌদির পাশে সামরিকভাবে দাঁড়াবে কি না, সেটি এখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে কোন দেশ কতসংখ্যক সেনা, কোন ধরনের বিমান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করবে, তার পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তিটি ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় এবং এতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন শুধু রাজনৈতিক ‘ডিটারেন্স’-এর ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নেই; সৌদি ভূখণ্ডে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বাস্তব প্রতিরক্ষা কাঠামোর দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বা তুর্কি বাহিনী যুদ্ধ করবে কি না—এ প্রশ্ন এখনো আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ।