ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘মূলত প্রায় শেষের দিকে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আশাবাদ এবং তেহরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) নেব্রাস্কায় এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘essentially almost over’। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে বিশ্বকে নিরাপদ রাখার জন্য এই বাড়তি দামকে তিনি সাময়িক ও ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান আলোচনায় বসার পরও ওয়াশিংটন একাধিকবার ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনাকে চাপ প্রয়োগ ও সামরিক পদক্ষেপের আড়াল হিসেবে দেখছে তেহরান।
এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলবে না। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ফলে ট্রাম্প যুদ্ধ প্রায় শেষ হওয়ার কথা বললেও ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি আলোচনায় অস্বীকৃতি এবং হরমুজ নিয়ে কঠোর অবস্থান—দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান এখনো অনিশ্চিত রেখেছে।