শত্রু গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেই শাস্তি: ইরানের পার্লামেন্ট

‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া বা তাদের আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের জন্য শাস্তির বিধান অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

‘বিদেশি প্রভাব মোকাবিলা’সংক্রান্ত একটি বিলের ২২ নম্বর ধারায় এ বিধান রাখা হয়েছে। এতে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় যেসব গণমাধ্যম বা ব্যক্তিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করবে, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার বা আলোচনায় অংশ নেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শুধু বিদেশি গণমাধ্যম নয়, এমন দেশগুলোর এজেন্টদের মালিকানাধীন, পরিচালিত বা অর্থায়িত গণমাধ্যমও এই বিধানের আওতায় পড়বে, যেসব দেশকে ইরানের আইনে ‘স্তর এক’ বা ‘স্তর দুই’-এর বিদেশি রাষ্ট্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

আইনটি কার্যকর হলে বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ইরানের দণ্ডবিধির ‘শ্রেণি ছয়’ পর্যায়ের এক বা একাধিক শাস্তি দেওয়া হতে পারে। এসব শাস্তির মধ্যে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।

তবে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট আগস্টে বিদেশি প্রভাব ও গোয়েন্দা তৎপরতা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিলটির সাধারণ নীতিমালা অনুমোদন করেছিল। তখন প্রস্তাবিত আইনে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ও যোগাযোগের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছিল।

আগের খসড়ায় এমন গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার বা আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যান্য বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল।

বিলটির পরিধি শুধু গণমাধ্যমে যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠান, দূতাবাস, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সরবরাহ, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা এবং বিদেশি প্রভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও এর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

ইরানের সরকার অবশ্য বিলটির কিছু বিধানের বিরোধিতা করেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফর লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স মাজিদ আনসারি এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত আইনের কিছু অংশ সংবিধান ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিলটি ইরানের পার্লামেন্টে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার পরও তা আইনে পরিণত হতে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে। ফলে সংসদে অনুমোদিত বর্তমান বিধানগুলোই চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হবে কি না, তা পরবর্তী সাংবিধানিক পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে।

নতুন এই বিধান কার্যকর হলে বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে ইরানি নাগরিক, সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য ব্যক্তির যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে কোন গণমাধ্যম বা ব্যক্তিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে—সে ক্ষমতা গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকায় বিধানটির প্রয়োগ নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।