ভারতের রাজনীতিতে বইছে নতুন করে উত্তেজনার পারদ। ‘ভোট চুরি’ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধসের অভিযোগ তুলে দিল্লির রাজপথে নেমেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য। মঙ্গলবার সকালে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নির্বাচন সদন অভিমুখী এই বিশাল মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজনীতি।
মিছিলটি সংসদের মকরদ্বার থেকে শুরু হয়ে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ রোধ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ রাহুলের ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানানোর দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খড়গেসহ শীর্ষ নেতারা আকাশবাণী কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগেন কেন্দ্র সরকারের ওপর। তিনি বলেন, “আমরা কেবল ক্ষমতাসীন বিজেপিকে মোকাবিলা করছি না, ওদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই লড়াইয়ে নেমেছি।” দেশে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই এই বিশাল সাংসদ দল রাজপথে নেমেছে বলে জোর দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ভোট চুরির মাধ্যমেই দেশকে হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং এতে সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে কমিশন। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কিত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল আরও জানান, প্রায় ৩০০ জন সাংসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে উল্টো পুলিশ দিয়ে আটকে রাখা ভারতের গণতন্ত্র ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়কেই নির্দেশ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই বিক্ষোভে সুর মেলােন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতা-উত্তর সার্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুরোপুরি সরকারের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবে কাজ করছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই লড়াই আরও তীব্র হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
একই সুর শোনা যায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে একতরফাভাবে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই গুরুতর অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের জোর দাবি তোলেন তিনি।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিক অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে কমিশনের তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর মতে, ২০১৭ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং এবার পশ্চিমবঙ্গে তারা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
এই বিশাল কর্মসূচিতে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও এনসিপিসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব একজোটে শামিল হন। মিছিলের একপর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সূত্র: পার্সটুডে