গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) থেকে ফিরে আসা এক কেনিয়ান নাগরিকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করেছে কেনিয়া।
কেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব আদিম দুয়ালে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, ওই রোগী গত সাত বছর ধরে ডিআরসিতে বসবাস করছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি সড়ক পথে ডিআরসি থেকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা এবং সেখান থেকে গত শনিবার বিমানে করে নাইরোবিতে পৌঁছান।
ভাইরাসের স্থানীয় বিস্তার রোধ করতে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো জানিয়েছেন, নিহতের অন্তত আটজন পরিবারের সদস্য এবং ২১ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ২৮ জন সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া একই ফ্লাইটে উগান্ডা থেকে ভ্রমণ করা আরও ২৩ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্যকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।
কেনিয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক প্যাট্রিক আমোথ জানান, চিহ্নিত এই ব্যক্তিরা ২১ দিন আইসোলেশনে থাকবেন এবং ভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ এলে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, উগান্ডায় চলতি বছরের শুরুতে ২০ জন আক্রান্ত ও দুইজনের মৃত্যু হলেও গত আগস্টে দেশটিকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
ডিআরসিতে চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ১৭তম এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবে ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সাতটি প্রদেশ মিলিয়ে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৮,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারি হিসেবে রূপ নিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই মহামারী "শেষ হতে এখনো অনেক বাকি" এবং এটি ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকা ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। ওই সময়ে প্রধানত গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিয়নে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে কেনিয়ায় ইবোলা আক্রান্তের মৃত্যুর পর বিশ্ব সংস্থাটি কেনিয়া, ডিআরসি এবং উগান্ডার ওপর কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা