ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর জন্য তিন দিনব্যাপী অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার, জ্বালানি স্থাপনা এবং সামরিক কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তাবগুলো বারবার নাকচ করেছেন বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। ফলে সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকলেও তা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির কথা বলছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও তৈরি রাখছে। পেন্টাগনের পরিকল্পনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক নেতৃত্বের যোগাযোগ ও নির্দেশনা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।
তবে পরিকল্পনা তৈরি করা এবং হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
এর আগে চলতি মাসের ২ অক্টোবর ইরানের আশপাশের জলসীমায় তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং নতুন হামলার পরিকল্পনা—দুই ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
পেন্টাগনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামোর পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব সামরিক সংঘাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নেয়, নাকি সামরিক পদক্ষেপের দিকে যায়। ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর বক্তব্য এবং পেন্টাগনের কথিত পরিকল্পনা—দুটিই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও আল জাজিরা