রাশিয়ায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ইরানের

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

রাশিয়ার বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব বাড়িয়ে রপ্তানি আয় ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটির বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ আলী দেহঘান দেহনাভি বলেছেন, রাশিয়ার আমদানি বাজারে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে, যার সঙ্গে ইরানের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মিল আছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে রাশিয়ায় ইরানের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ইরানের গিলান প্রদেশের আনজালি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে অনুষ্ঠিত প্রথম ইরান-রাশিয়া বাণিজ্য উন্নয়ন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেহনাভি একই সঙ্গে দেশটির শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্তমানে রাশিয়ায় ইরানের বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রাশিয়ার আমদানি চাহিদাকে লক্ষ্য করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

শুল্কমুক্ত বাণিজ্যে নতুন সুযোগ

ইরান ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (ইএইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। দেহনাভির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ৮৭ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে রাশিয়ার বাজারে ইরানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার প্রধান বলেন, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ আরও গভীর করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের অর্থনৈতিক অংশীজন এবং দেশের বিদ্যমান সম্পদকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, রাশিয়ার আমদানি বাজারে যেসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের রপ্তানি সক্ষমতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে।

গিলান-আস্ত্রাখান বাণিজ্য সম্পর্কেও গুরুত্ব

সম্মেলনে রাশিয়ার রাসত শহরে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল ভ্লাদিমিরোভিচ আজারভ বলেন, বিভিন্ন খাতে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে এবং দুই দেশ এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী।

তিনি সম্মেলনের আলোচনা কার্যকর ও গঠনমূলক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চল ও ইরানের গিলান প্রদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং প্রতিবেশীসুলভ সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সাল থেকে অঞ্চল দুটির মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর রয়েছে।

গিলান প্রদেশের আনজালি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে শুরু হওয়া এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান-রাশিয়া বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা। বিশেষ করে গিলান ও আস্ত্রাখানকে দুই দেশের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

রাশিয়ায় ইরানের রপ্তানি ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ, পরিবহন ও লজিস্টিকস, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের ওপর। শুল্ক কমানোর সুযোগ থাকলেও শুধু চুক্তি কার্যকর হলেই রপ্তানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না; উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান ও মূল্য প্রতিযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইরানের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে ২০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা এখনো একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য—এটি অর্জিত রপ্তানি আয় নয়।

সূত্র: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ 

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত