রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে বহু কৌশলগত কর্মসূচি ও নীতিগত বিষয়ে মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক সংকটের সমাধান কূটনৈতিক পথেই খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সংঘাতের অবসানে রাশিয়া সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তুর্কমেনিস্তানের তুর্কমেনবাশিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পুতিন। স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথের শীর্ষ সম্মেলন এবং কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক পরিবেশ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার এই বৈঠক হয়।
পুতিন বলেন, বর্তমান সংকটের সূত্রপাতের জন্য ইরান দায়ী নয়। অথচ এখন বহু দেশ কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছে। সংঘাতের অবসানে ইরানও নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংকট সমাধানে রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে পুতিন বলেন, কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে মস্কো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির প্রতিও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলেও আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রতিবারই নতুন হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে তেহরানকে। তারপরও সংঘাতের অবসান এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ইরানের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে তাঁর দেশ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় উভয় পক্ষ প্রস্তাব বিনিময় করেছে। ইরান সেসব প্রস্তাবে নিজেদের সংশোধনীও যুক্ত করেছে। প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিষয়টি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। তবে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে অনড় থাকলে সংঘাতের অবসান ও ইরানের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
ওয়াশিংটনের নীতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাঁর মতে, একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ব ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।
এ সময় আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার ভূমিকার জন্য মস্কোর প্রশংসা করেন পেজেশকিয়ান। একতরফা আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা মোকাবিলায় দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তেহরান ও মস্কোর সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান বাণিজ্য, অর্থনীতি ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের সম্মত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান সমন্বয় আরও জোরদার হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। জ্বালানি, কৃষি, পরিবহন ও বাণিজ্য খাতে যৌথ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারেও ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: প্রেস টিভি