যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে 'সৎ মধ্যস্থতাকারী' পাকিস্তান: আহমেদ শরিফ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান সৎ ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সংঘাতের সমাধান আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইসলামাবাদ। যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করছে পাকিস্তান।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সিএনএন এর সাংবাদিক ইভান ওয়াটসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র। পাকিস্তান কীভাবে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর দেশ সততার সঙ্গে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছে এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট।

সাক্ষাৎকারে ওয়াটসন প্রশ্ন করেন, অতীতে ইরানের সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা এবং বর্তমানে ইরানের মিত্র হুথিদের সৌদি আরবের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান কি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী থাকতে পারে?

জবাবে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তান ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলারও নিন্দা করেছে ইসলামাবাদ। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছে এবং যুদ্ধের বিস্তারে কারও লাভ নেই বলে সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের স্বার্থ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। সংঘাতের বিস্তার ঠেকিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোই দেশটির লক্ষ্য। যুদ্ধ যেন আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিনি জানান, পাকিস্তানি সেনারা কয়েক দশক ধরেই সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

চুক্তির সামরিক বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, এর আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক হবে। কোন বাহিনীর কোন অংশ কোথায় এবং কীভাবে মোতায়েন করা হবে, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা কমান্ডার। সামরিক সংঘাতের মধ্যে কোনো দেশই সাধারণত নিজেদের বাহিনী কোথায় বা কীভাবে ব্যবহার করবে, সেই কার্যপরিকল্পনা প্রকাশ করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে কখন ও কীভাবে সেনা মোতায়েন করা হবে, তা সময়মতো স্পষ্ট হবে বলে জানান পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সব দেশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। কোনো হুমকি যাতে প্রকৃত সামরিক সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে তা আগেই ঠেকানো উত্তম।

আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে। সম্মিলিত প্রতিরোধের শক্তি সম্ভাব্য আক্রমণকারীকে একাধিকবার ভাবতে বাধ্য করতে পারে এবং এর মাধ্যমে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

এমন সময়ে তাঁর এই বক্তব্য এল, যখন সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা সামনে এসেছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার এবং চুক্তিভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সোমবার রিয়াদে জোটের জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সংকটের সময় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন