ব্রেক্সিট গণভোটে হস্তক্ষেপ করেছিলো রাশিয়া: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

২০১৬ সালের ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স’-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রেক্সিট ভোটে মস্কোর ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে তাঁকে ইতিবাচক উত্তর দেওয়া হয়েছে।

বার্নহাম বলেন, “আমার কাছে এখন স্পষ্ট যে, ২০১৬ সালের ভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল। আমরা হয়তো এ বিষয়ে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলাম না এবং বিদেশ থেকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যে চেষ্টা চালানো হয়, সে সম্পর্কে জনগণকে পর্যাপ্ত সচেতন করতে পারিনি।” এটিই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ব্রেক্সিট গণভোটে ক্রেমলিনের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।

জার্মানি সফরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম জানান, তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার ও বিরোধী নেতা ফ্রিডরিশ মার্জের পাশাপাশি ফরাসি নেতৃত্বের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে জানান, জার্মানি ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও রাশিয়া ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে প্রাক-ব্রেক্সিটপন্থী প্রচারণাকারী দল ‘ব্রিটেন আনবাউন্ড’। তারা বার্নহামের মন্তব্যকে জনগণের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে অবমূল্যায়ন করার “অপচেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে এবং ভোটাররা এত সহজে বিভ্রান্ত হয়েছেন এমন দাবিকে অপমানজনক বলেছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটির এক প্রতিবেদনে রাশিয়ার এই ধরণের হস্তক্ষেপের কথা উঠে আসলেও মস্কো সবসময় তা অস্বীকার করে একে ‘রুশোফোবিয়া’ বা রাশিয়া-ভীতি বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত অপতথ্য ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যে একটি নতুন বিশেষ সংস্থা বা সেন্টার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বার্নহাম।

সূত্র: বিবিসি