ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়লে দেশটির বাহিনী ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এক নেতা।
সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করব না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলে তাদের সব স্বার্থকে লক্ষ্য করে দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।’
বুখাইতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেন। তাঁর দাবি, এসব স্থাপনা এখন ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হয়েছে।
হুথিদের নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
হুথি নেতার এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন সৌদি আরবের হামলায় গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার হুথিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘হুথিরা খুব খারাপ আচরণ করছে। তারা খুব খারাপ আচরণ করছে। এটা ভালো নয়।’
সৌদির দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সোমবার দাবি করেছে, রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পরে দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের দিকে নিক্ষেপ করা আরও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে জোটটি।
হুথিদের পাল্টা হামলার হুমকি, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।