যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। তাঁর দাবি, এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসংকট পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমবে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইসমাইল কৌসারি এ মন্তব্য করেন।
কৌসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের জ্বালানির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। একইভাবে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বও হ্রাস করা সম্ভব হবে না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানির একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
এ কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো এ ধরনের বিঘ্নের কারণে চাপে পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে কৌসারির এ মন্তব্য সামনে এল।
তবে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে আলোচিত জ্বালানি চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত, বাস্তবায়নের সময়সীমা কিংবা সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদা কতটা পূরণ করতে পারবে, তা নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন।