এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার বিষয়ক সংস্থা সিআইসিএ (CICA) থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান উৎস ইসরায়েল।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত সিআইসিএর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ আহ্বান জানান গরিবাবাদি। তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং এশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।
গরিবাবাদি বলেন, বিপুল মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সমৃদ্ধ সভ্যতার অধিকারী এশিয়া বর্তমানে নানা জটিল নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং সামরিক আগ্রাসন, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের এই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালায়। তাঁর দাবি, নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই এ হামলা শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের হামলার মুখে পড়েছে ইরান।
গরিবাবাদি দাবি করেন, হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। এ ছাড়া মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা স্কুলের ১৬৮ শিশুসহ বহু ইরানি প্রাণ হারান। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে ইরান। তাঁর ভাষায়, ইরান যুদ্ধপ্রিয় দেশ নয়; তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও আইনহীনতার প্রধান উৎস হিসেবে অভিহিত করে গরিবাবাদি বলেন, সামরিক শক্তির মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল, ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘন এবং লেবানন ও সিরিয়াসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সংঘাত এশিয়ার অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গরিবাবাদি আরও বলেন, দখলদারত্ব, সামরিক আগ্রাসন ও হুমকির বিষয়ে নীরব থেকে এশিয়ায় টেকসই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর আগে সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতিবাদে ইরানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলসহ আরও ১২টি দেশের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ ত্যাগ করে বলে তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।