হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি নজরদারিতে’, শত্রুপক্ষের জাহাজ ঢুকলেই হামলা: ইরানের সেনাপ্রধান

হরমুজ প্রণালি ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ‘পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। ইরানের জনগণের অধিকারকে প্রতিপক্ষ সম্মান না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহরের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

আমির হাতামি বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকারকে শত্রুপক্ষ সম্মান না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তিনটি জাহাজ ছাড়া শত্রুপক্ষের কোনো জাহাজ ওমান সাগরে প্রবেশের সাহস করেনি। ওই তিনটি জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

হাতামির ভাষ্য, ‘আমরা দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন তারা জানে, এই পথে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত সীমিত।’

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সমুদ্রপথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এ পথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ট্যাঙ্কার পরিবহন, বীমা ব্যয় এবং তেল ও গ্যাসের দামের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে দেশটির পক্ষের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জাহাজ চলাচলের প্রকৃত অবস্থা, হামলার ঘটনা এবং সমুদ্রপথটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীন ও হালনাগাদ তথ্য দিয়ে দাবিগুলো যাচাই করা জরুরি।