ইন্দোনেশিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলার সময় আগুনে পুড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাভা দ্বীপের একটি জাতীয় উদ্যানে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত অবস্থায় বৃহস্পতিবার তারা প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্ব জাভার ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে আগুন নেভানোর সময় ওই চারজন আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহস ও নিষ্ঠার প্রশংসা করা হয়েছে।
বন মন্ত্রণালয় বলেছে, বন ও ভূমির আগুন নেভানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের অভিযানে কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আগুন কোন দিকে ছড়াচ্ছে এবং বাতাসের গতিপথ কী, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সরে যাওয়ার পথ প্রস্তুত রাখা জরুরি। অভিযানের আগে ও চলাকালে পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দাবানলে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের ধোঁয়ায় আশপাশের দেশগুলোর আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে আগুনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
এক দিনে হটস্পট বেড়েছে ৪২৭টি
ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সারা দেশে উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তাসহ ৭৯৯টি হটস্পট শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় এই সংখ্যা ৪২৭টি বেশি।
তবে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, হটস্পটের সংখ্যা মানেই আগুনের প্রকৃত সংখ্যা নয়। একটি দাবানল থেকেই একাধিক হটস্পট শনাক্ত হতে পারে।
এদিকে দাবানল মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরমানাথা নাসিরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
গত মাসে মালয়েশিয়া তিনটি হেলিকপ্টার, একটি উড়োজাহাজ এবং ৫২ জন কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরও ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
দাবানলের কারণে ইন্দোনেশিয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ধোঁয়ায় সৃষ্ট বায়ুদূষণে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগেছেন। দূষণের কারণে মালয়েশিয়া ও পূর্ব তিমুরে স্কুলও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স