ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকবে না ইসরায়েল। প্রয়োজন হলে এককভাবেই অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক তৎপরতা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের হালনাগাদ জাতীয় নিরাপত্তানীতি তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন তিনি চান, তবে সেটি কোনো পূর্বশর্ত নয়। প্রয়োজন হলে ইসরায়েল অতীতের মতো এবারও স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেবে।
নেতানিয়াহু ইরানকে মোকাবিলা করাকে তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি। শত্রুপক্ষ যেন আগে আঘাত হানতে না পারে, সে জন্য ইসরায়েলকে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং শত্রুদের পরাজিত করার কাজের ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে এই অধ্যায়ের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এগুলো নেতানিয়াহুর বক্তব্য; ইরানের শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।
এদিকে, ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। গত সপ্তাহে দুই দেশের নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।
তবে অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়নি। ফলে নতুন সামরিক অভিযান কবে বা কীভাবে হতে পারে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দেশটিতে জনগণ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; ১২০ সদস্যের নেসেটে আসনসংখ্যা ও সরকার গঠনের জন্য জোটের সমীকরণের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত হন।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানকে ঘিরে দুই নেতার আলোচনার পাশাপাশি এ সমর্থনও ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এর নির্বাচনী প্রভাব কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়াই পদক্ষেপ নেওয়ার নেতানিয়াহুর ঘোষণা দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে। তবে নতুন হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং দুই দেশের পরবর্তী অবস্থানের ওপর পরিস্থিতির গতিপথ নির্ভর করছে।