নতুন হামলা হলে ইরানের জবাব হবে অনিশ্চিত: বাসিজ কমান্ডার

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে তেহরানের পাল্টা জবাব কেমন হবে, তা প্রতিপক্ষের পক্ষে অনুমান করা সম্ভব হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার হোজ্জাতুল ইসলাম হোসেইন তায়েব। তিনি বলেছেন, যেকোনো নতুন আগ্রাসন প্রতিহত করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে তায়েব দাবি করেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা সম্পর্কে নিজেদের ভুল হিসাব বুঝতে পেরেছে। এখন তারা অর্থনৈতিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, প্রক্সি গোষ্ঠীর ব্যবহার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে সংঘাতের নতুন পর্যায় এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে ভুল হিসাবের দাবি

তায়েবের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথমে ধারণা করেছিল- তিন দিনের যুদ্ধ কিংবা ছয় সপ্তাহের সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব হবে। সামরিক ব্যর্থতার পর ইরানের জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও তারা মনে করেছিল। তবে এসব হিসাব সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি; বরং দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে। তায়েব আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের কৌশলগত হিসাবের ভুল বুঝতে শুরু করেছে।

অর্থনৈতিক চাপের জবাব কী হবে, জানে না প্রতিপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে বাসিজ কমান্ডার বলেন, ওয়াশিংটন এখন তাদের অর্থনৈতিক অভিযানের পরিণতি দেখতে পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কেন সরাসরি যুদ্ধে জড়াচ্ছে না? এমন প্রশ্ন তুলে তায়েব বলেন, এর একটি কারণ হতে পারে তাদের পিছিয়ে আসা। অন্য কারণ হলো, সংঘাতের নতুন পর্যায়ে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, কোথায় আঘাত হানবে, কী ধরনের উপায় ব্যবহার করবে এবং কখন পদক্ষেপ নেবে, তা অনুমান করা কঠিন।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ গোয়েন্দা সংস্থাও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া অনিশ্চিত হতে পারে বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করছে। ফলে তেহরান কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিপক্ষকে অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এসব গোয়েন্দা সংস্থার বক্তব্যের নির্দিষ্ট সূত্র বা বিস্তারিত বিবরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

নতুন আগ্রাসন ঠেকাতে প্রতিরোধক্ষমতার ওপর জোর

তায়েব বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতিকে কার্যকর প্রতিরোধক্ষমতায় রূপ দিতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করার আগে সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ যদি কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন হামলা চালায়, তাহলে তাকে অনিশ্চিত ধরনের জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও সম্ভাব্য হামলার জবাবে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা জানাচ্ছে। তবে নতুন কোনো হামলার নির্দিষ্ট সময়, লক্ষ্যবস্তু কিংবা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ধরন সম্পর্কে তায়েব বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সব মিলিয়ে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে প্রতিপক্ষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখার কৌশল এবং নতুন হামলা নিরুৎসাহিত করার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে তার বক্তব্যের সামরিক মূল্যায়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত