চীনের রাজধানী বেইজিং ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ জনসংখ্যার শহরে পরিণত হতে পারে। ওই সময় শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ে স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ ৯০ হাজার। শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ তারা। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার। এর মধ্যে মৌলিক পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের নীতিনির্ধারকেরা জনসংখ্যা পরিকল্পনাকে দেশের অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। জন্মহার বাড়াতে চলতি বছর দেশটির সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ২৬ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে রয়টার্সের হিসাবের বরাতে জানানো হয়েছে।
২০২২ সাল থেকে চীনের জনসংখ্যা কমছে। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের অনুপাত। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানো এবং ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া আগামী বছরগুলোতে কয়েকশ মিলিয়ন মানুষ কর্মজীবন থেকে অবসরে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ এরই মধ্যে পেনশন খাতের বাজেট চাপে রয়েছে। ফলে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
জনসংখ্যাবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে শিশু জন্মের সংখ্যা কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যতের পরিবার গঠন ও ভোগব্যয়ের ওপর। পরিবারসংখ্যা কমে গেলে এবং ভোগের প্রবৃদ্ধি ধীর হলে তা চীনের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স