যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে ইরান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তেহরান এ কৌশল নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও ইরানের একজন অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। সূত্রগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের নেতৃত্ব মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছালে ট্রাম্প রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন কোনো কূটনৈতিক সাফল্য দিতে তেহরান আগ্রহী নয়, যা নির্বাচনের আগে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির জন্য নয়, বরং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ধর্মীয় নেতৃত্ব ট্রাম্পকে রাজনৈতিক বিজয় দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নয়।’
নির্বাচনের আগে সমঝোতার সম্ভাবনা কম দেখছে তেহরান
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন। একই সঙ্গে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও কম দেখছেন তাঁরা।
এ পরিস্থিতিতে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচনার শর্ত নিয়ে দুই দেশের বিরোধ
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আগে কীভাবে অগ্রসর হওয়া হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তার সাত দফা পরিকল্পনায় উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে। তেহরানের অবস্থান হলো, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক আলোচনা শুরু করা যাবে না।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে রাখতে চায়।
এই মতপার্থক্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথে অন্যতম বাধা হয়ে রয়েছে।
কূটনীতি ও সামরিক প্রস্তুতি পাশাপাশি
ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে কেবল যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছে না; বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাবও বিবেচনায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিস্থিতি, নতুন হামলার আশঙ্কা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ—সব মিলিয়ে আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে আলোচনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যে উদ্দেশ্যের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তা রয়টার্সের বেনামি সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। এ বিষয়ে ইরান সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স