যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেবে ইরান: আলী আবদুল্লাহি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার ইরানে হামলা চালালে আরও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি। সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় ড্রোন উৎপাদন ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরানের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনকালে এ সতর্কবার্তা দেন আবদুল্লাহি। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান এবং খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি ও দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামরিক উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় আবদুল্লাহি ইরানের সেনাবাহিনীর ড্রোন উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, একাধিক উৎপাদন লাইন প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, ইরানি বিশেষজ্ঞদের তৈরি ও আধুনিকায়ন করা সামরিক সরঞ্জাম আগের সংস্করণের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং সেগুলোতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।

আবদুল্লাহির দাবি, সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো আগ্রাসনের মুখে পড়লে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।

ইরানের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অসম যুদ্ধকৌশলের কথা তুলে ধরেন এই কমান্ডার। তাঁর ভাষ্য, প্রতিপক্ষের কাছে আধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র থাকলেও তুলনামূলক কম খরচের কার্যকর সামরিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাদের মোকাবিলা করা সম্ভব।

আবদুল্লাহি বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান বিভিন্ন পদ্ধতি ও অসম যুদ্ধের সক্ষমতা কাজে লাগাবে। আবার হামলা হলে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের সুবিধা মোকাবিলায় দেশটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, এর ফলে প্রতিপক্ষের সামরিক অভিযান আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর স্বনির্ভরতা অর্জনের অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন আবদুল্লাহি। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জাতীয় শক্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নীতির সঙ্গে এই উদ্যোগের সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুল্লাহি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ড বা দেশটির বিপ্লবী মূল্যবোধের জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষা করতে সশস্ত্র বাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দ্বিতীয় সংঘাতটি এপ্রিলের শুরুর দিকে ৪০ দিন পর থামে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় সংঘাতেই দেশটির পাল্টা সামরিক অভিযান প্রতিপক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য করেছে। তবে এসব সামরিক মূল্যায়ন ইরানি পক্ষের বক্তব্য; প্রতিপক্ষের অবস্থান ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সামরিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে দ্বিতীয় সংঘাতের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও সামুদ্রিক চলাচল ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবদুল্লাহির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নতুন সংঘাতের আশঙ্কা সামনে রেখে ইরান ড্রোন উৎপাদন, নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে তাঁর হুঁশিয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে এগোয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।