ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে সামরিক সহায়তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য। এর অংশ হিসেবে সৌদি আকাশসীমায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ টহল পরিচালনা করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান। তবে হুথিদের স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছে লন্ডন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের শহর, বেসামরিক জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করবে।
এই অভিযানে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হতে পারে। তবে ব্রিটিশ বিমান থেকে ইয়েমেনে হুথিদের স্থলঘাঁটি বা অন্য কোনো স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন স্ট্রিটিং। সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে একটি সামরিক পরিবহন বিমান এবং সামরিক উপদেষ্টাদের একটি দল পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে উপদেষ্টার সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত মাসে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। স্ট্রিটিং জানান, ওই জ্বালানি সরবরাহ মিশাদের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিকবার হামলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে স্ট্রিটিং বলেন, বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে হুথিদের নেওয়া পদক্ষেপের মাত্রা তুলে ধরে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও যুক্তরাজ্য বলেছে, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। অর্থাৎ, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে লন্ডন। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানের প্রতিরক্ষামূলক টহল, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহ মিশাদের মেয়াদ বৃদ্ধি সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েমেনের সংঘাত কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।
হরমুজে আগুনে জ্বললো দুই কোটি ব্যারেলের বেশি তেলবাহী সুপারট্যাংকার
আঞ্চলিক সব সংকটের মূলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী নীতি: পেজেশকিয়ান
ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত বেড়ে ৭৩, নিখোঁজ ১৪