ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সদস্যরা হাজার হাজার মাইক্রো-ড্রোন মোতায়েন করেছেন বলে দাবি করেছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
তেহরান এই কর্মকাণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপ ও ন্যাটোর বৃহত্তর শত্রুতামূলক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ইরান বিবেচনা করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সূত্রটি ইউক্রেনের কর্মকাণ্ডকে ‘ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ ও ‘কেলেঙ্কারি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, কিয়েভের তৎপরতা সম্পর্কে তেহরান অবগত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৪০ দিনের আগ্রাসনের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা কয়েকটি দেশকে ড্রোন-সংশ্লিষ্ট সহায়তা দিয়েছে ইউক্রেন।
ইরানের নিরাপত্তা সূত্রের অভিযোগ, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রতিবেদনটিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা নথি প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রটি আরও দাবি করেছে, অতীতে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় ইরান সংযম দেখালেও ভবিষ্যতে ইউরোপ বা ইউক্রেনকে ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সুলাইমানিয়া শহরে তিন ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ তখন জানিয়েছিল, ওই তিন ব্যক্তি স্থানীয় একটি গোষ্ঠীকে ছোট আকারের চালকবিহীন আকাশযান পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। পুলিশ আরও দাবি করেছিল, প্রশিক্ষণটি হত্যাকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তার উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছিল এবং উত্তর ইরাকে সক্রিয় একটি গোষ্ঠী এর অর্থায়ন ও তদারকি করছিল।
তবে গ্রেপ্তারের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কিংবা মামলার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে তাসনিমের এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিরিয়ার হোমসের একটি সামরিক একাডেমির স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ড্রোন হামলার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। রুশ সূত্রের বরাতে তাসনিম দাবি করেছে, ওই হামলা পরিচালনায় ইউক্রেনীয় অপারেটিভরা যুক্ত ছিলেন। হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা ইউক্রেনের বক্তব্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান ইউক্রেনের কথিত ড্রোন নেটওয়ার্ককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার, আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অংশ। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাসনিমের এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে প্রতিবেদনের মূল দাবিগুলো একটি পরিচয় প্রকাশ না করা ইরানি নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীন প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ছাড়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি