ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তাঁর প্রশাসন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকার মধ্যেই ভিসা বাতিলের এ পরিসংখ্যান সামনে এলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের গতি আরও বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শুরুর পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও দ্রুতগতিতে ভিসা বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের আইন ভঙ্গ, জালিয়াতি কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ছাড় নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কার অভিযান দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক নজরদারি বা হয়রানির আশঙ্কা বেড়েছে।

মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়া ভিসা বাতিলের ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা প্রত্যাহার। গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে কিছু বিদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচিত হয়েছে।

বিদেশি বিক্ষোভকারীদের বহিষ্কারের উদ্যোগের পাশাপাশি অভিবাসী ও ভিসাপ্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন কিছু জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মতো বৃহত্তর অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বৈধ অভিবাসনও কঠিন হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপ এর অন্যতম উদাহরণ।

ভিসা বাতিলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার ব্যাপ্তি তুলে ধরলেও, কোন ধরনের ভিসা কত সংখ্যায় বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত তথ্যে বিস্তারিত বিভাজন দেওয়া হয়নি।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত