ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যা থামেনি: মার্কিন কংগ্রেসওম্যান

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ডেলিয়া রামিরেজ। তাঁর অভিযোগ, বোমা হামলা কিংবা অনাহারের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখা হচ্ছে, আর এর পেছনে রয়েছে মার্কিন করদাতাদের অর্থে সরবরাহ করা সামরিক সহায়তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রামিরেজ বলেন, গাজায় খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ার কারণে প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর মন্তব্য, “বোমা কিংবা অনাহার—যেভাবেই হোক, গণহত্যা শেষ হয়নি। আমাদের অবশ্যই এটি বন্ধ করতে হবে।”

রামিরেজ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উত্থাপিত তাঁর ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে উত্থাপিত এই বিলের লক্ষ্য হলো, নির্দিষ্ট মানবিক শর্ত পূরণ না হলে ইসরায়েলে কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্র সরবরাহ বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করা। বিলটি কার্যকর হলে ইসরায়েলে নির্দিষ্ট ধরনের মার্কিন অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বিলটির সমর্থকদের যুক্তি, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় কমাতে ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের ওপর শর্ত আরোপ করা জরুরি। তবে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। 

গাজায় খাদ্যসহায়তা কমাচ্ছে জাতিসংঘের সংস্থা

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ১৯ অক্টোবর জানিয়েছে, তীব্র অর্থসংকটের কারণে গাজায় খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম কমাতে হচ্ছে। সংস্থাটির মাসিক সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামানো হচ্ছে। ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিয়মিত খাদ্যসহায়তার বাইরে চলে যাবেন।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, পরিবারপ্রতি খাদ্যসহায়তার পরিমাণও কমানো হচ্ছে। আগে দুটি খাদ্যপ্যাকেট দেওয়া হলেও এখন দেওয়া হবে একটি; গমের আটার পরিমাণও কমবে। প্রতিদিন গরম খাবার বিতরণের সংখ্যা আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখ করা হচ্ছে।

সংস্থাটি বলেছে, ২০২৬ সালে ফিলিস্তিনে তাদের কার্যক্রমের জন্য আগের বছরগুলোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম অর্থ পাওয়া গেছে। গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে আগামী ছয় মাসের জরুরি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আরও ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন। 

ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ—মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৬৭ শতাংশ—এখনো সংকটাপন্ন মাত্রার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন, যেখানে ক্ষুধাজনিত মৃত্যু ঠেকাতে জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে রামিরেজের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলনীতি ও সামরিক সহায়তা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। তাঁর দাবি, মানবিক বিপর্যয় বন্ধ করতে হলে শুধু ত্রাণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়; ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহের নীতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ শব্দটি এখানে রামিরেজের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে এসেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।