ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা আর চলছে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ‘খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটবে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এ বক্তব্যে দুই দেশের চলমান অচলাবস্থা নতুন করে সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংকলন অনুযায়ী, কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধের ইঙ্গিতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) উত্তর উপসাগরে চারটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি।

তবে হামলার পূর্ণ বিবরণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর পরিচয় সম্পর্কে সংবাদ সংকলনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ইরানের এ দাবির স্বাধীন যাচাই বা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তেলবাহী জাহাজের চলাচল, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটিতে দায়িত্ব পালনরত কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এ পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। তবে কতজন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যকে সরানো হচ্ছে, কিংবা তাঁদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কি না—তা সংবাদ সংকলনে স্পষ্ট করা হয়নি।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি—দুই বিষয় একসঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং সৌদি আরবে হামলার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে দাম আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রে তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক দামের স্থায়িত্ব, আমদানি ব্যয় এবং দেশের জ্বালানি মূল্যনীতির ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার বাইরে আফ্রিকাতেও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ সংকলনটিতে নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি একজন কূটনীতিকের স্ত্রী, যিনি সম্প্রতি উগান্ডায় ছুটি কাটিয়েছিলেন। তবে সংক্রমণের উৎস, রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় ভ্রমণ-ইতিহাস ও সম্ভাব্য সংক্রমণ-যোগাযোগ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে একজনের সংক্রমণের খবর থেকে দেশটিতে ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তের দাঙ্গার ঘটনায় দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে দাঙ্গার নির্দিষ্ট কারণ, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, সাজাগুলোর মেয়াদ কিংবা মামলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিচারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝতে আরও তথ্য প্রয়োজন।

ইরানকে ঘিরে নির্বাচনের পর কী করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল?

ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে দুটি নির্বাচনের দিকে নজর রয়েছে। ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে সংবাদ সংকলনটি।

নির্বাচন দুটির পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানে আবারও হামলা শুরু করবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য, উপসাগরে ট্যাংকারে হামলার ইরানি দাবি এবং সৌদি আরবে মার্কিন কূটনীতিকদের সরানোর নির্দেশ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এখন কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয় কি না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকে কি না, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে উত্তেজনার পরবর্তী গতিপথ।